ব্রাজিলের সাও পাওলোর একটি বহুতল ভবনের ১০ তলার ব্যালকনি থেকে পড়ে ২৫ বছর বয়সী অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সার মারিয়া কাতিয়ানে গোমেস দা সিলভা মারা গেছেন।


মারিয়ার স্বামী, ৪০ বছর বয়সী অ্যালেক্স লিয়েনড্রো বিস্পো দস সান্তোস প্রথমে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন, ঝগড়ার পর তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ শুরু থেকেই বিষয়টিকে সন্দেহজনক মনে করেছিল। তদন্তের সময় সান্তোসের বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়ায় ১০ দিন পর, ৯ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে নারী হত্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।


ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম জি১ এবং ও গ্লোবো অনুসারে, ঘটনার আগে প্রতিবেশীরা বিকট শব্দ এবং দম্পতির চিৎকার শুনেছিলেন। জরুরি সেবা সংস্থা ও সামরিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।


তদন্তে পুলিশের হাতে এসেছে সিসিটিভি ফুটেজ। ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন সকালে ভবনের পার্কিং গ্যারেজে সান্তোস তার স্ত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছেন। আরেকটি ফুটেজে লিফটের ভিতরে দম্পতিকে ঝগড়া করতে দেখা যায়, যেখানে সান্তোস সিলভার ঘাড় ধরে লিফট থেকে জোর করে টেনে বের করেন। এর পর কিছুক্ষণ পর তিনি একা লিফটে ফিরে আসেন।


পুলিশ জানিয়েছে, সিলভার পড়ে যাওয়ার আগে সান্তোস যে বর্ণনা দিয়েছিলেন, তা ফুটেজের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। এই প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং মামলাটি নারী হত্যা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।


মারিয়া কাতিয়ানে গোমেস দা সিলভা ব্রাজিলের ক্রাটেউসের একটি গ্রামীণ অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। উন্নত জীবনের আশায় তিনি সাও পাওলোতে আসার আগে রেস্তোরাঁ ও সুপারমার্কেটে কাজ করতেন। সেখানেই তার সঙ্গে সান্তোসের পরিচয় হয় এবং পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।


সিলভা ইনস্টাগ্রামে বেশ সক্রিয় ছিলেন। তিনি ভ্রমণ, রূপচর্চা, স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত শেয়ার করতেন। তার শেষ পোস্ট করা হয়েছিল ৮ নভেম্বর। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ছিল। তিনি নিয়মিত নিজের বিউটি রুটিন এবং ব্যক্তিগত আপডেট শেয়ার করতেন।