গাজীপুর-৪ আসনে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে বিএনপির শাহ রিয়াজুল হান্নান ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী সালাউদ্দিন আইয়ুবীর মধ্যে। কাপাসিয়া উপজেলা কেন্দ্রিক এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এলাকা হিসেবে পরিচিত।
বিএনপির প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ব্রিগেডিয়ার (অব.) আ স ম হান্নান শাহের ছেলে। হান্নান শাহের মৃত্যুর পর তিনি এলাকার বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, এই আসনে হান্নান পরিবারের প্রভাব এখনও প্রবল এবং ভোটাররা ধানের শীষের প্রতি সমর্থন বজায় রাখছেন।
অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী সালাউদ্দিন আইয়ুবী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও গাজীপুর মহানগর জামায়াতের ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য, এলাকায় পরিচিত মুখ। তার পক্ষে দলীয় কর্মী ও নারী নেতৃবৃন্দ বাড়ি বাড়ি প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেছেন, “মানুষ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি থেকে মুক্তি চাইছে। ক্ষমতায় আসলে আমরা এসব সমস্যা সমাধান করতে পারব।”
এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা কাজীম উদ্দীনও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ চালাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, “জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে। মানুষ আমাদের পক্ষে ভোট দেবে বলে আশা করি।”
মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬১ হাজার ৯৫১ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৬৪ হাজার ৬৮০ জন।
ভোটাররা বলছেন, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দাঁড়াচ্ছে না। তাই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের মধ্যে মূল লড়াই হবে। কাপাসিয়া বাজারের ব্যবসায়ী সুলাইমান হোসেন বলেন, “গাজীপুর-৪ আসন মূলত বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এবার আওয়ামী লীগ নেই, তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুই দলের মধ্যে।”
শিক্ষক ফাতেমা বেগম বলেন, “বিগত ১৫ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবে ভোটার।” কাপাসিয়ার তরগাঁও ইউনিয়নের ফজলুর রহমান বলেন, “বিজয়ের মালা কে পরবে তা নির্বাচনের পরেই জানা যাবে। তবে মানুষ শান্তি চাই।”
নাজমুল ইসলাম নামে মুদি দোকানদার যোগ করেন, “এই এলাকার মানুষ খুব ভেবে ভোট দেবে। নির্বাচনে যাই জয়ী হোক, এলাকার মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়।”





