স্বাক্ষর জাল করে ঋণ পুনঃতপশিলের চেষ্টা সংক্রান্ত একটি ঘটনায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এম জুবায়দুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের আসামি করা হয়েছে।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচকে অবস্থিত আফাকু কোল্ড স্টোরেজের পলাতক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভুয়া উপস্থিতি দেখিয়ে বোর্ড সভার রেজুলেশন তৈরি, স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা উপেক্ষা করে ৩৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিলের চেষ্টার অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়। আফাকু কোল্ড স্টোরেজের চেয়ারম্যান হলেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
অন্যদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকেই দায়ী করেন।
আখতার হোসেন বলেন, ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতরা দেশের ভেতরে লুকিয়ে আছে নাকি ভারতে পালিয়ে গেছে—এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো স্পষ্ট কোনো বার্তা দিতে পারেনি। তার দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রযন্ত্র বা প্রশাসনের একটি অংশ জড়িত থাকতে পারে। কারণ পরিচিত একজন ব্যক্তির পক্ষে একা খুন করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়; এখানে একটি বড় চক্র কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ওসমান হাদি হত্যার পেছনে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালে গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। খুনিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে কেউ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে সাহস পাবে না।
এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, নানাভাবে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারকে নিশ্চিত করতে বলেন, যেন ভবিষ্যতে এমন হত্যাকাণ্ড আর না ঘটে।
আখতার হোসেন বলেন, গত দেড় বছরে দেশে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সরকার নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করলেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। গণঅভ্যুত্থানের পর তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলেও বিচার প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণে তারা বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করা গেলে ওসমান হাদিকে প্রাণ দিতে হতো না।
এ সময় এনসিপির রংপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক মো. আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর নয়ন, আবু রায়হান, রংপুর-৪ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল মামুন, এনসিপি নেতা তৌফিক ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে রংপুর নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে গ্রাফিতি ও টাইপোগ্রাফি অঙ্কন কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। হাদির স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তার আদর্শে তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত রাখার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরসংলগ্ন দেয়ালে প্রথম দিনের অঙ্কন কার্যক্রমে এনসিপি ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।





