মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীকে হটিয়ে উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ দখলে নিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। এরই মধ্যে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। ক্রমেই তারা শক্তি বৃদ্ধি করছে এবং সদস্য সংগ্রহে বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরকে টার্গেট করছে।

\r\n

আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের (ICG) আজ (বুধবার) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিদ্রোহের প্রবণতা রাখাইনে আন্তঃসাম্প্রদায়িক সংঘাত বাড়াতে পারে এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টাকে বিপর্যস্ত করতে পারে

\r\n

প্রতিবেদন বলছে, রোহিঙ্গা গোষ্ঠীগুলো ধর্মীয় আবেগ কাজে লাগিয়ে শরণার্থীদের দলে টানছে। নিজ ভূমি ফেরত পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং আরাকান আর্মির প্রতি ক্ষোভ তাদের এই চেষ্টাকে জোরালো করছে।

\r\n

২০২৪ সালের নভেম্বরে শরণার্থীশিবিরভিত্তিক বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ঐক্যমতে পৌঁছে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ডিসেম্বরেই রাখাইনের মংডু শহর দখলে নেয় আরাকান আর্মি।

\r\n

গোষ্ঠীগুলো ‘ঐক্য সমাবেশ’ করে রোহিঙ্গা যুবকদের ‘জিহাদে’ অংশ নিতে আহ্বান জানায়। এতে রোহিঙ্গা তরুণদের মধ্যে বিপথগামী হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

\r\n

সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আগে চলা অভ্যন্তরীণ সংঘাত এখন কমে এলেও তারা শিবিরে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলছে

\r\nICG বলছে, বাংলাদেশি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর একাংশ এই গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে আরাকান আর্মিকে প্রত্যাবাসনে রাজি করানো যায়।

\r\n

তবে এই কৌশল আরাকান আর্মির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে, যা প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলবে।

\r\n

রোহিঙ্গা গোষ্ঠীগুলোর বিদ্রোহ আরাকান আর্মির জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন করতে পারে, যা মিয়ানমারের সাধারণ জনগণের চোখে রোহিঙ্গাদের ‘ভুল পক্ষ’ হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি করে। এতে তাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার আন্দোলন ও সুশাসনের দাবি দুর্বল হয়ে পড়বে।

\r\n

ICG বলছে, বাংলাদেশ সরকারের উচিত—আরাকান আর্মির সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়া, সীমান্ত এলাকায় মানবিক সহায়তা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শরণার্থীশিবিরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং বেসামরিক নেতৃত্ব তৈরিতে সহায়তা করা।

\r\n

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে রোহিঙ্গা শিবিরে খাদ্য ও নিরাপত্তা সংকট বাড়ছে। এতে তরুণরা অপরাধ চক্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যোগ দিচ্ছে। নারী ও কিশোরীদের মধ্যে জোরপূর্বক বিয়ে ও নির্যাতনের ঘটনাও বাড়ছে

\r\n

ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদন সতর্ক করে বলছে, “রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান অস্ত্র নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা, সংলাপ ও সহনশীলতায় নিহিত।”

\r\n

রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিদ্রোহে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং মানবিক সহায়তা প্রক্রিয়া—সবকিছুই হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই বাংলাদেশ, আরাকান আর্মি ও আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর এখনই দায়িত্বশীল ও কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।