ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা ও সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে লেহ শহরে চলমান বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এতে অন্তত চারজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
বুধবার বিক্ষোভ চলাকালে উত্তেজিত জনতা স্থানীয় বিজেপি কার্যালয়ে আগুন দেয় এবং একটি গাড়িও পুড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। সহিংসতার পর লেহ জেলার জেলাশাসক রোমিল সিং ডঙ্ক শহরজুড়ে কারফিউ জারি করেন। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা অনুসারে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়।
বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল লেহ অ্যাপেক্স বডির যুব শাখা, যারা দীর্ঘদিন ধরেই লাদাখের জন্য রাজ্যের মর্যাদা এবং ষষ্ঠ তফসিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। সংগঠনের সভাপতি থুপস্তান সোয়াং জানান, \"আজকের সহিংসতায় আমাদের ২-৩ জন যুবক শহিদ হয়েছেন। আমরা তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেব না।\"
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীর ভেঙে লাদাখকে পৃথকভাবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। তখন অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে সেই পরিবর্তনের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন লাদাখের মানুষ।
এই দাবিকে সামনে রেখে গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকের নেতৃত্বে ৩৫ জন অনশনে বসেন। স্বাস্থ্যগত কারণে দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়। বুধবার আন্দোলনকারীরা লেহ শহর স্তব্ধ করে বিক্ষোভে নামে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
ঘটনার পর অনশন প্রত্যাহার করেন সোনম ওয়াংচুক। টুইট বার্তায় তিনি লেখেন, “আমার শান্তির বার্তা ব্যর্থ হয়েছে। আমি যুব সমাজকে বলছি, সহিংসতা পরিহার করুন। এতে আমাদের প্রকৃত লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গত পাঁচ বছর ধরে তরুণদের হতাশা জমেছে, আমি সেটা বুঝি। কিন্তু সহিংসতার পথ সঠিক নয়, এবং আমি এর নিন্দা জানাই।”
এদিকে, সহিংসতার জন্য সোনম ওয়াংচুককেই দায়ী করেছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে বলা হয়, “বিভিন্ন পক্ষ অনশন বন্ধের আহ্বান জানালেও তিনি তা চালিয়ে যান এবং উসকানিমূলকভাবে আরব বসন্ত ও নেপালের ‘জেন-জি’ আন্দোলনের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক কার্যালয় ও সরকারি ভবনে হামলা চালায়। এর মাধ্যমে তিনি জনতাকে উসকে দিয়েছেন।”





