অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সড়ক নির্মাণ ব্যয় বেশি কেন– তা খতিয়ে দেখতে ‘রিভিউ কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি জানান, এই কমিটির কাজ হবে নির্মাণ ব্যয় কমানোর উপায় বের করা। কর্মসংস্থানের ক্ষতির আশঙ্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ করা যাচ্ছে না।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সড়ক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি ও অবস্থান নিয়ে আলোচনা শেষে উপদেষ্টা বলেন, সড়ক খারাপ থাকায় জনসাধারণকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। বর্ষা শেষে সংস্কার শুরু হবে। যেসব রাস্তা বৃষ্টি-বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেগুলো কংক্রিট দিয়ে সংস্কার করা হবে। অগ্রাধিকার পাবে জাতীয় মহাসড়ক। এরপর আঞ্চলিক মহাসড়ক একই পদ্ধতিতে সংস্কার হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মইনুল হাসান জানান, সংস্থাটির আওতাধীন দেড় হাজার কিলোমিটার রাস্তা খারাপ।
উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, বাংলাদেশে সড়ক নির্মাণ ব্যয় ৩০ শতাংশ বেশি। তা ঠেকাতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের রেট শিডিউল ও সড়কের প্রাক্কলিত ব্যয় রিভিউ করা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিনকে প্রধান করে আগামী ১৫ দিনে কমিটি হবে। এতে সড়ক পরিবহন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের রাখা হবে। কমিটি বিস্তারিত অনুসন্ধান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে সড়ক নির্মাণে সচেষ্ট থাকবে সরকার।
ফাওজুল কবির খান বলেন, যেসব সড়কে পণ্যবাহী যান ও যাত্রী চলাচল বেশি করে, সেগুলো সংস্কারে অগ্রাধিকার পাবে। এমনভাবে সড়ক সংস্কার করতে হবে, যেন তা স্থায়ী হয়।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, ভারতের ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। যেখানে জমি অধিগ্রহণ করা যাচ্ছে না, সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা যাচ্ছে না। অন্য পরিষেবা সরানো যাচ্ছে না। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কের একই চিত্র। কাজে দেরি হচ্ছে। সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ঢাকার সড়কে ডাইভারশন চালু করে যানজট কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেছে জানিয়ে ফাওজুল কবির বলেন, সমস্যা হলো মানুষ খুব অল্পতে অধৈর্য হয়ে যায়। একটু ঘুরে যেতে চায় না।
ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধে নতুন যানবাহন নামাতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, গাড়ি আমদানি এক দেশনির্ভর হওয়ায় গুণগত মান বাড়ছে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আমদানির নীতি পরিবর্তন করা দরকার।





