আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (ICT) কারো বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল হলে, তিনি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না এবং জনপ্রতিনিধি থাকলেও সেই পদে থাকার যোগ্যতাও হারাবেন— এমন বিধান যুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
এর ফলে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আর ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া মামলার বিচার কার্যক্রম এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) জারি হওয়া ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (তৃতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ সংযুক্ত করা হয়েছে নতুন ২০(সি) ধারা। এর মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হওয়ামাত্রই অভিযুক্ত ব্যক্তি সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি (চেয়ারম্যান, মেয়র, কমিশনার, প্রশাসক ইত্যাদি), কিংবা কোনো সরকারি পদে নিয়োগ পাওয়ার অযোগ্য হবেন।
তবে যদি তিনি আদালত থেকে খালাস পান, তাহলে এই অযোগ্যতা আর প্রযোজ্য থাকবে না।
আইনের এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য— বিচারাধীন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কেউ যেন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে না থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন এর আগে এক বছরে দুই দফা সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ এই তৃতীয় সংশোধনীটি ৪ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর ৬ অক্টোবর অধ্যাদেশ আকারে কার্যকর করা হয়।
২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর জন্য এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল। ironically, সেই আইনেই এখন বিচারাধীন হচ্ছেন আওয়ামী লীগের অনেক সাবেক নেতা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। আওয়ামী সরকারের বহু মন্ত্রী-এমপি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন, অনেকে দেশত্যাগ বা আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলমান।
আওয়ামী সরকারের আমলে চালানো দমন-পীড়ন, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বিবেচনা করে নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার।





