ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে কিয়েভ। হামলায় একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করার পর কুরস্ক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে (এনপিপি) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন পরে নিয়ন্ত্রণে আনলেও এতে উৎপাদনক্ষমতা কমে গেছে।

রবিবার (২৪ আগস্ট) ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় এই হামলা চালানো হয়। কুরস্ক এনপিপি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানায়, “ড্রোনটি ভূপাতিত হওয়ার পর একটি ডিভাইস বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।” তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং বিকিরণ পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।

এ ঘটনায় সাম্প্রতিক শান্তি প্রচেষ্টাগুলো আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) আগেই যুদ্ধক্ষেত্রের পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরে বিপদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল।

কেন্দ্রটি রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি কুরস্ক নগরীর পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। শহরটিতে প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার মানুষের বসবাস।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “শান্তির আহ্বান অগ্রাহ্য করা হলে ইউক্রেন এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানাবে। ইউক্রেন কোনো শিকার নয়, এটি যোদ্ধা। আমরা এখনো পুরোপুরি জয়ী না হলেও, কখনো হার মানব না।”

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর ইউক্রেন স্বাধীনতা লাভ করে। সেই দিনটিকে কেন্দ্র করেই রাশিয়ার ভূখণ্ডে এই হামলা চালায় ইউক্রেন।

রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপও। এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ধ্বংস হয়ে গেছে ইউক্রেনের বহু শহর ও গ্রাম।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর বারবার আহ্বান সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনো নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হননি।