আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বাসভবন নির্ধারণে প্রস্তুতি নিচ্ছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা বাসভবন নির্ধারণসংক্রান্ত সুপারিশও জমা দিয়েছে।
মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে নতুন বাসভবন নির্ধারণের বিষয়টি সামনে আসে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাধারণ মানুষ গণভবনে প্রবেশ করে, যেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বসবাস করতেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরবর্তীতে গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের কাজ শুরু করে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা অক্টোবরের মধ্যে এবং জাদুঘরটি উদ্বোধন হতে পারে আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।
নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী কোথায় বসবাস করবেন—এই প্রশ্ন সামনে আসায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকেও আলাদাভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তারা শেরেবাংলা নগরের দুটি স্থানকে সম্ভাব্য বাসভবন হিসেবে বিবেচনা করছে: একটি হচ্ছে সংসদ ভবন এলাকার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সরকারি বাসভবন, অন্যটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় চত্বর।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গঠিত আগের কমিটি রাজধানীর কয়েকটি এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে ২০ জুলাই তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। এই ছয় সদস্যের কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহম্মেদ (বর্তমানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক)। যদিও সেই প্রতিবেদন নিয়ে বৈঠক হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
নতুন করে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির নেতৃত্বে আছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। এ কমিটিতে সংসদ সচিবালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সরকারের বাসভবন কেবল নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি রাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্বও বহন করে। সেই বিবেচনায় উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে সরকার চাইছে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পর্যালোচনা।





