পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগ হত্যার দুই মাস কেটে গেলেও এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে ১১ জন এখনও পলাতক। নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত চকবাজার থানা যুবদলের সাবেক সদস্য সারোয়ার হোসেন টিটুকে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা গেলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না।

পলাতক আসামিদের মধ্যে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কৃত অন্তত চারজন নেতাকর্মী আছেন। তারা হলেন– যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহসম্পাদক রজ্জব আলী পিন্টু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবাহ করিম লাকি, চকবাজার থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব অপু দাস এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কালু। নিহত সোহাগও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে আটজন এজাহারভুক্ত ও ছয়জন তদন্তে শনাক্ত আসামি। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৯ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত ৯ জুলাই সন্ধ্যায় রজনী বোস লেন থেকে সোহাগকে ধরে মিটফোর্ড হাসপাতাল চত্বরে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার মৃতদেহ টেনে এনে রাস্তায় ফেলে লাফালাফি করে হামলাকারীরা।

নিহতের স্ত্রী লাকী বেগম বলেন, “টিটুসহ অনেক আসামি এখনও ধরা পড়েনি। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি, সন্তানদেরও হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা আছে। পুলিশের তৎপরতা এখন আর আগের মতো নেই।”

মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে মহিন, রবিন, মনির, আলমগীর, টিটন, সজীব, নান্নু, রিজওয়ান ও জহিরুল আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে মহিন দাবি করেন, সোহাগের সঙ্গে টিটুর ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল। টিটুর নির্দেশেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। পুলিশ বলছে, ভাঙাড়ি ব্যবসার দখল নিয়ে বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তবে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, এর সঙ্গে মাসিক চাঁদাবাজির বিষয়ও জড়িত ছিল।