অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এ অধ্যায়ের প্রধান ও প্রথম কাজ হবে সুন্দরভাবে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রেস সচিবের ভাষ্যমতে, ড. ইউনূস বলেছেন—৫ আগস্ট প্রথম অধ্যায় শেষ হয়েছে, আজ থেকে শুরু দ্বিতীয় অধ্যায়। বিচার ও সংস্কারের পাশাপাশি এর মূল লক্ষ্য হবে সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনের তারিখ নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবে। বিতর্ক এড়াতে এসপি ও ওসিদের পদায়ন লটারির মাধ্যমে হবে, আর ডিসি নিয়োগ বিষয়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্তত ৮ লাখ সদস্য মাঠে থাকবেন, যা বাড়িয়ে ৮ লাখ ৫০ হাজার করা হতে পারে। সেনাবাহিনী ৬০ হাজার সদস্য দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

শফিকুল আলম জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। আলজাজিরা ও বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তিনি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আশা করা হচ্ছে, তিনি দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হবেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, খুন ও অপরাধের হার আগের তুলনায় কমেছে। প্রশাসন ভেঙে পড়লে গত এক বছরে এত সাফল্য আসত না। খাদ্য মজুত ১৮ লাখ টন থেকে বেড়ে ২১ লাখ টনে পৌঁছেছে, ৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ হয়েছে, মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের নিচে নেমেছে, ব্যাংক ও রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

বৈঠকে সরকারের এক বছরের কর্মকাণ্ডের পর্যালোচনায় জানানো হয়, ৩১৫টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ২৪৭টি বাস্তবায়ন হয়েছে, যা ৭৮.৪১ শতাংশ। ৫৬টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। ‘গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি’র নাম পরিবর্তন করে ‘ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশ’ করা হয়েছে। মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির শহীদদের সম্মানী বিতরণে স্বজনদের মধ্যে বিরোধ মেটাতে এক সপ্তাহের মধ্যে বিধি প্রণয়ন হবে।

বৈঠক ঘিরে সচিবালয়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা। একমাত্র ১ নম্বর গেট দিয়ে সীমিত প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, মোতায়েন ছিল সোয়াট টিম, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা।