সুদানের রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) সোমবার (২৪ এপ্রিল) ৭২ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।
বিবৃতিতে ব্লিঙ্কেন উল্লেখ করেছেন, এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষকে অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণরূপে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে হবে। এছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং সুদানের বেসামরিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার তদারকির জন্য কমিটি গঠনে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে।
ব্লিঙ্কেন বলেন, “সুদানে বেসামরিক সরকার পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে আমরা সুদানি দল ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।” একই সঙ্গে, ইসরায়েলও দুই পক্ষকে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজধানী খার্তুমে চলমান ভয়াবহ লড়াইয়ের কারণে বিদেশি কূটনীতিক ও নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য রবিবার তাদের কূটনীতিকদের খার্তুম থেকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনও তাদের কূটনীতিক ও নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।
সুদানের রাষ্ট্রীয় সেনা ও শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই দেশটিকে ভয়াবহ সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, রবিবার সকালেই তিনটি চিনুক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে প্রায় ১০০ জনকে দ্রুত ও নিরাপদে খার্তুম থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে। আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক শিক্ষার্থী এখনও সেখানে আটকে আছেন। আশা করা হচ্ছে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, এই লড়াইয়ে ইতোমধ্যেই ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার আহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।





