স্থানীয় সরকারের আওতাধীন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আইন ও আচরণবিধিমালায় সংশোধন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি রমজানের মধ্যেই এ সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে কমিশন সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।


\r\n

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য সিটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য কিছু সংস্কার জরুরি। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনের জটিলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। এ জন্য একটি সুসংগঠিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।


\r\n

স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি। ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্ভব হয়নি। ফলে এখন কমিশন সুবিধাজনক সময়ে নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে।


\r\n

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়াদও আগেই শেষ হয়েছে। উত্তর সিটির নির্বাচনী সময় গণনা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর এবং মেয়াদ শেষ হয় ২৫ জুন। দক্ষিণ সিটির ক্ষেত্রেও একই সময়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ১ জুন মেয়াদ শেষ হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় তখন সিটি নির্বাচন করা যায়নি। সম্প্রতি এ দুটি সিটির নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে মন্ত্রণালয় থেকে ইসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।


\r\n

বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। এর মধ্যে আপাতত ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম—এই তিনটির নির্বাচন আয়োজন জরুরি। কমিশন আগামী কোরবানির ঈদের আগেই এ তিন সিটির নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা করছে।


\r\n

ইসি সূত্রে জানা গেছে, রমজানজুড়ে সিটি করপোরেশন আইন ও আচরণবিধি পর্যালোচনা করা হবে। কোথায় সংশোধন বা সংযোজন প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কমিশনের ধারণা, সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধিতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অঙ্গীকারনামা দেওয়ার বিধান সহিংসতা কমাতে কার্যকর হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে সিটি নির্বাচনেও অনুরূপ বিধান যুক্ত করার চিন্তা রয়েছে।


\r\n

এছাড়া স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের জন্য অভিন্ন আচরণবিধি প্রণয়নের বিষয়েও ভাবছে কমিশন। বর্তমানে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য পৃথক আইন ও বিধিমালা রয়েছে। একই ধরনের অপরাধে ভিন্ন বিধান থাকায় ব্যবস্থা নিতে জটিলতা তৈরি হয়। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে এ অসামঞ্জস্য দূর করার পরিকল্পনা রয়েছে।


\r\n

ইতোমধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা তিন সিটির নির্বাচন সংক্রান্ত ফাইল প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে। কমিশন সভায় আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হবে, ঈদুল ফিতরের আগে না পরে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিন সিটির নির্বাচনই কোরবানির ঈদের আগেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।


\r\n

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময়সীমা চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৩ মার্চের মধ্যে। কুমিল্লা সিটির নির্বাচন আগামী বছরের ৬ জুলাইয়ের মধ্যে করতে হবে। রংপুর, গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালে।


\r\n

এ ছাড়া স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ ও শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল রমজানের মধ্যেই ঘোষণা করা হতে পারে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।