জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা অভিযোগ করেছেন, শহীদের পরিবার হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি। এমনকি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহকে শতবার ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেননি বলে জানান তিনি।

\r\n

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪—জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন ফাতেমা তুজ জোহরা।

\r\n

তিনি বলেন, “আমার ছেলে আবদুল্লাহ ৫ আগস্ট শহীদ হয়েছে। তার রক্তের বিনিময়ে আজ অনেকে ক্ষমতায়। কিন্তু সেই উপদেষ্টা সরকার আমাদের একবারও খোঁজ নেয়নি। সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহকে ১০০ বার ফোন দিয়েছি, একবারও রিসিভ করেনি।”

\r\n

শোকবিধুর কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “আমার দুই ছেলে। বড় ছেলে আবদুল্লাহ ১৭ বছরে শহীদ হয়। এরপর ১৪ বছরের ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে, এখন সে হাসপাতালে। তার চিকিৎসা খরচ বহন করছে বিএনপি পরিবার। এমনকি মে মাসে আমার স্বামীও স্ট্রোক করে মারা যান। আমরা চরম সংকটে থেকেও বিএনপির সহানুভূতি পেয়েছি। আজ যদি তারা পাশে না থাকত, তাহলে হয়তো ছোট ছেলেকেও বাঁচাতে পারতাম না।”

\r\n

তিনি বলেন, “আমরা রাস্তায় থাকতাম, যদি বিএনপি পরিবার পাশে না থাকত। আমার ছোট ছেলের শুক্রবার আরেকটি অপারেশন, সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।”

\r\n

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

\r\n

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

\r\n

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য অনুষ্ঠানে সম্মানসূচক আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে এসব পরিবারকে ‘বিশেষ সুবিধা’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।