ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’। একইসঙ্গে হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে সংগঠনটি।
ররিবার (১৮ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সাদা দলের নেতারা এই দাবি জানান। মানববন্ধনে ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস’ ও ‘সাম্য হত্যার দ্রুত বিচার’ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে জীবন দিতে হয়েছে এটা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। বিগত ১৬ বছর ধরে একটি ছাত্রসংগঠন এই ক্যাম্পাস একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে কার্যত এখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। যখন বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে উন্নতি করছিল, শিক্ষার পরিবেশ ফিরছিল, তখনই সাম্যকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।”
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। এরপর ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের যাত্রায় সাম্য ছিলেন একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখ। সম্ভবত এ কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সহাবস্থান ও ডাকসু বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো সামনে এগোতে থাকলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
মানববন্ধনের সভাপতির বক্তব্যে সাদা দলের বর্তমান আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, “সাম্য হত্যার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া এখনো লোকদেখানো মাত্র। আমরা ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিচ্ছি। এর মধ্যে সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে বিচার না করলে সাদা দল কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।” তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে উদ্দেশ করে বলেন, “সাম্য হত্যার বিচার দিয়ে শুরু করুন, অতীতের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করুন।”
তিনি আরও বলেন, “সাম্যকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ ফিমোরাল আর্টারিতে আঘাত করা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এটা কোনো অপেশাদার কাজ হতে পারে না।”
মানববন্ধনে সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান খানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।





