নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত জুলিয়াস সিজার তালুকদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভাইস-প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।


মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) তিনি ডাকসু নির্বাচন কমিশনের চিফ রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে ফরম সংগ্রহ করেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।


জুলিয়াস সিজার ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্রলীগ মনোনীত জিএস প্রার্থী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ওই নির্বাচনে সশস্ত্র হামলা, ভোটকেন্দ্রে বাধা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।


সাবেক প্রার্থী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সিজার ২০১৯ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেন এবং এস এম হলে ‘কৃত্রিম লাইন’ তৈরি করে ভোটারদের ভোটাধিকার খর্ব করেন। একইসঙ্গে, হল সংসদের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদকে মারধর করে তার কানে গুরুতর জখম করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মশিউর আমিন শুভ জানান, “ফরিদ ভাইকে হলে তোলার সময় আমাদের ওপরও সিজার বাহিনী হামলা চালায়। এতে ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর, এনসিপি নেতা আখতার হোসেন এবং ছাত্রদল নেতা মাহমুদসহ অনেকে আহত হন।”


২০১৯ সালের নির্বাচনের পরও এস এম হলে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে সিজারের বিরুদ্ধে।

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী ছিলেন আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক। তিনি বলেন, “সিজার ফরিদকে মারধরের নেতৃত্বে ছিল এবং আমাকে এস এম হলে ঢুকতে বাধা দিয়েছিল। আমি একজন প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্র পর্যবেক্ষণের অধিকার থাকা সত্ত্বেও সে তা লঙ্ঘন করেছে। অথচ সে এখন ভিপি পদে লড়ছে!”


বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ হীল বাকী প্রশ্ন তুলেছেন, “এমন চিহ্নিত সন্ত্রাসী কীভাবে এখনো ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ায়?”

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সিজারের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাকে মনোনয়নের সুযোগ দিয়ে প্রশাসন ছাত্রসমাজকে হতাশ করেছে। আমরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।”


তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন হলে ভোটার তালিকায় থাকা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। না হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এর দায় নিতে হবে।”


এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুলিয়াস সিজার বলেন, “আমি ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিলাম না, কেবল গোলাম রাব্বানীর অনুসারী ছিলাম। আজ যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার কোনোটির লিখিত প্রমাণ নেই। আমি অনেক সময় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধেও কথা বলেছি।”


সিজারের মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার বিকেলে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও সাবেক প্রার্থীরা বিক্ষোভ করেন।


বিক্ষোভকারী জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ বলেন, “আমরা প্রধান রিটার্নিং অফিসারকে আগামীকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় দিয়েছি সিজারের প্রার্থীতা বাতিল ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।”


এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন প্রধান ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।