জেলা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় ৩৬ বছরের ভোগদখলীয় সম্পত্তি গোপনে অন্যের নামে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তালা উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা গ্রামের মৃত প্রফুল্ল ঘোষের ছেলে মুকুন্দ কুমার ঘোষ এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানাধীন কুমিরা মৌজার (এস.এ খতিয়ান নং–১৫৮৭, দাগ নং–১২৭৪) ৪.২২ শতক জমি পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখলে থাকা অবস্থায় সরকার ১৯৮৭ সালে সেটিকে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ১৯৮৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ডিসিআর নিয়ে উক্ত জমি আমি ভোগদখলে আছি। দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর যাবৎ ভোগদখলে থাকা অবস্থায় অজানা কারণে তালা ভূমি অফিস থেকে গোপনে ওই জমি অন্যদের নামে ডিসিআর ইস্যু করা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় যথানিয়মে আমি ডিসিআর কাটার জন্য তালা ভূমি অফিসে গেলে জানতে পারি, আমার ভোগদখলীয় উক্ত সম্পত্তি গোপনে প্রায় ২০ দিন আগে অন্যদের নামে ডিসিআর দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমি সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর একটি আপিল (আপিল নং–০৪/২৫) করি। তিনি তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল.এ শাখার সার্ভেয়ার মো. সাকিব আলম কাওসারকে নির্দেশ প্রদান করেন।

কিন্তু সার্ভেয়ার সরেজমিনে না গিয়ে গোপনে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাবে আমার বিরুদ্ধে একতরফা প্রতিবেদন দাখিল করেন।

মুকুন্দ কুমার ঘোষ আরও বলেন, উক্ত জমিতে আমার পানের বরজ, পেয়ারা বাগান, কলা বাগান রয়েছে এবং একইসাথে ধান্য চাষও করেছি। এসব ফসল দেখাশোনার জন্য উক্ত জমিতে একটি টিনের ঘরও নির্মাণ করা আছে। এমতাবস্থায় সার্ভেয়ারের গোপন প্রতিবেদন অনুসারে এডিসি (রাজস্ব) বরাবর পুনঃতদন্তের আবেদন জানিয়ে দরখাস্ত করেছি। কিন্তু তিনি তা বিবেচনা না করে আদেশের দিন ধার্য করেন। যার ফলে আমার গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমি মনে করি।

এ বিষয়ে সার্ভেয়ার সাকিব আলম কাওসার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ভুক্তভোগীর যদি প্রতিবেদন পছন্দ না হয়, তাহলে পুনরায় তদন্তের জন্য আবেদন করুক।”

তালা উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদুর রহমান (বর্তমানে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত)–এর বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, “আমার অফিসে অভিযোগ আসলে বিষয়টি দেখবো।”