উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে গ্রিস উপকূলে একটি রাবারের নৌকায় অন্তত ২২ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রিসের কোস্ট গার্ড জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ও উপকূলীয় রক্ষা বাহিনী ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ ক্রিট দ্বীপের কাছে ২৬ জনকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানের এবং ১ জন চাদের নাগরিক। এর মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছেন।
জীবিতরা জানিয়েছেন, পাচারকারীদের নির্দেশে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে। নিহত ১৮ বাংলাদেশির মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তারা হলেন—সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রনারচরের মুজিবুর রহমান (৪৫), তারাপাশার মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০) এবং একই এলাকার মো. সাহান (২৫)।
গ্রিক কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। ছয় দিন সমুদ্রে ভাসতে থাকা নৌকায় খাবার ও পানীয়ের তীব্র সংকট দেখা দেয়। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ক্ষুধার তাড়নায় যাত্রীদের ক্লান্তি মৃত্যুর কারণ হয়।
এ ঘটনায় দক্ষিণ সুদানের দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া অভিবাসীর সংখ্যা ৫৫৯ জন, যা গত বছরের ২৮৭ জনের দ্বিগুণেরও বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর নীতি থাকা সত্ত্বেও অভিবাসীরা ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা থামাচ্ছেন না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সংকটের স্থায়ী এবং মানবিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।





