প্রতিবন্ধী নারীরা সমাজে দ্বিগুণ বৈষম্যের শিকার বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, একদিকে নারী হিসেবে এবং অন্যদিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে নানা বাধা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। তাই প্রতিবন্ধী নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি মূলধারার নারী আন্দোলন ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তাদের অন্তর্ভুক্তি জরুরি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনের মিলনায়তনে ফেমিনিস্ট লিডারশিপ কমিটি (এফএলসি) আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেএনইউএস-এর নির্বাহী পরিচালক লতিফা ইয়াসমিন লাভলি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মাহমুদা বেগম, ফওজিয়া খোন্দকার ইভা, কামরুন নাহার, মোছা. ফজিলা খানম, সামিয়া আহমেদ, রোকসানা সুলতানা, নাছরিন জাহান এবং ওমর ফারুক।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিল্পী আক্তার। তিনি বলেন, কোনো একজন নারী পিছিয়ে থাকলে সমাজের মুক্তি পূর্ণতা পায় না। বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী, যাদের বড় একটি অংশ এখনো মূলধারার উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি ও বেসরকারি অনেক সেবা প্রতিষ্ঠান এখনো প্রতিবন্ধী নারীবান্ধব নয়। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
বক্তারা বলেন, একজন মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন গুরুত্বপূর্ণ হলেও একমাত্র সমাধান নয়। এজন্য নারীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে হবে এবং প্রান্তিক নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও ছিল। এতে সংগীত পরিবেশন করেন শারমিন সুলতানা ও ওয়াদুদ রাহুল।
আর এটি আইন দিয়ে মানা সম্ভব নয়। তাই আইন হতে হবে নারীবান্ধব। তবে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন একমাত্র উপায় নয়। নারীর চ্যালেঞ্জ অনেক। এজন্য নারীকে একতাবদ্ধ, যূথবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছে দাবি তুলতে হবে।
নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে প্রান্তিক নারীদের নিয়ে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিল। সেখানে সংগীত পরিবেশন করেন শারমিন সুলতানা ও ওয়াদুদ রাহুল।





