ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে বিচ্ছিন্ন করে ফরিদপুর-২ আসনের (নগরকান্দা ও সালথা) সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সভা করেছেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ফ্লাইওভারের নিচে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম। বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা, সহ-সভাপতি ওবায়দুল আলম সম্রাট, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে সুবহান শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মুন্সী ও সোহেল মুন্সী, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বিটু, প্রচার সম্পাদক মির্জা ইমরান, দপ্তর সম্পাদক কুতুব উদ্দিন স্মরণ, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক এম এ ওয়াদুদ, সদস্যসচিব জাকির হোসেন, সদস্য মিজানুর রহমান পান্না, পলাশ মুন্সী, আরিফ মুন্সি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুস সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম।
নেতাকর্মীরা জানান, আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ভাঙ্গা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। এখন ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে এই দুই ইউনিয়নকে যুক্ত করার মাধ্যমে একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্ত ভাঙ্গাবাসীর স্বার্থবিরোধী এবং তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
তারা হুঁশিয়ারি দেন, যতক্ষণ না এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে পুনরায় ভাঙ্গার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে, ততক্ষণ লাগাতার কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহাসড়ক অবরোধ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে তারা ‘কাফনের কাপড় পরে’ আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের গেজেট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে প্রশাসনের অনুরোধে তিন দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে আগামী মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে কঠোর কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানানো হয়।
ইতোমধ্যে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের মাধ্যমে দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ম ম সিদ্দিক মিয়া (আলগী) ও খোকন মিয়া (হামিরদী) পৃথক স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল জানান, প্রয়োজনে তিনি উচ্চ আদালতে রিট করে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাবেন।
ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা বলেন, আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ইউনিয়ন দুটিকে ভাঙ্গা থেকে আলাদা করার চেষ্টা করছে। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। প্রয়োজনে শহিদুল ইসলাম বাবুলের নেতৃত্বে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা হবে।





