যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত ৩৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। তবে অনেকেই এই শুল্ক হ্রাসের পেছনে যেসব শর্ত বা চুক্তি রয়েছে—সেগুলো প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিল, তা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। এজন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তবে তার দল আরও স্বচ্ছতা চায়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মনে করেন, শুধু শুল্ক হার জানিয়ে জনগণকে সন্তুষ্ট করা উচিত নয়। এর পেছনে কী চুক্তি হয়েছে, কী শর্ত দেওয়া হয়েছে—তা জাতির জানা দরকার। শুল্ক কমানো একটি প্যাকেজ চুক্তির অংশ হতে পারে, যেখানে হয়তো বোয়িং বিমান কেনা বা অন্য আর্থ-রাজনৈতিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, এটি কেবল একটি শুল্ক বিষয় নয়, বরং বৃহৎ কূটনৈতিক বিনিময়ের অংশ, যা জনস্বার্থে উন্মুক্ত করা দরকার।
বিএনপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই শুল্ক হ্রাস কূটনৈতিকভাবে একটি অগ্রগতি হলেও, সেটির প্রকৃত চিত্র বুঝতে হলে পুরো আলোচনার প্রক্রিয়া ও ফলাফল জনগণের সামনে আনতে হবে। দলটি মনে করে, শুধু শুল্কের হার কমানো নয়, বরং এর বিপরীতে কী প্রতিশ্রুতি বা ছাড় দেওয়া হয়েছে, তা জানাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীও যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এক ফেসবুক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেছেন, উচ্চ শুল্ক হ্রাস করায় দেশের গার্মেন্ট শিল্প কিছুটা স্বস্তি পাবে। তবে তার এই পোস্টে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, এর বিনিময়ে বাংলাদেশের কী দিতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, যদি সত্যিই কিছু দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সরকারের উচিত সেটি জনগণের সামনে প্রকাশ করা। কারণ রাষ্ট্রের সম্পদের মালিক জনগণ এবং তাদের এই ধরনের বিষয়ে জানার অধিকার রয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেন, ১৫ শতাংশ শুল্ক হ্রাস নিঃসন্দেহে একটি অগ্রগতি হলেও, এটা যেন চূড়ান্ত ধাপ না হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় আরও জোরালো অবস্থান নিতে হবে এবং শুল্ক আরও কমানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শুল্ক হ্রাসকে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন বলে আখ্যা দিয়েছে। দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসেন বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে লাখ লাখ মানুষ কাজ করেন এবং এই খাত দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত। যদি যুক্তরাষ্ট্র ৩৫ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখত, তাহলে শিল্পখাত বড় ক্ষতির মুখে পড়ত। কিন্তু এখন শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা দেশের রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ এখন তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং এটি ভবিষ্যতে বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তির বাতাস বইয়ে এনেছে। তবে সরকার এই সিদ্ধান্তের অন্তর্নিহিত চুক্তি ও পার্শ্বপরিস্থিতি নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানায়নি। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর জোরালো দাবি, জনগণের স্বার্থে পুরো বিষয়টি খোলাসা করা হোক।





