হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কনকনে শীতে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।


\r\n

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস সর্বনিম্ন ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে। আবহাওয়া অফিস জানায়, এটি দেশের মধ্যে এবং চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ এবং বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার।


\r\n

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমান তাপমাত্রা অনুযায়ী এলাকায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে।


\r\n

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ। কুয়াশার কারণে সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচল ধীরগতিতে হচ্ছে। অনেক যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।


\r\n

ঘন কুয়াশায় প্রকৃতি ঢাকা পড়লেও জীবিকার তাগিদে সকাল থেকেই কাজে বের হচ্ছেন শ্রমজীবীরা। তবে দুদিন ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহ সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ছিন্নমূল, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ।


\r\n

পাথর শ্রমিক সোহরাব আলী বলেন, “রাত থেকে কুয়াশা বৃষ্টির মতো ঝরছে। প্রচণ্ড ঠান্ডায় সকালে কাজ করা খুব কঠিন। হাত একেবারে বরফ হয়ে যাচ্ছে, তবু পরিবারের কথা ভেবে কাজে নামতে হচ্ছে।”


\r\n

উপজেলা সদরের ভ্যানচালক আইনুল হক বলেন, “সকালে ভ্যান নিয়ে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। হিমেল বাতাসে শরীর কাঁপে, ঠিকমতো ভ্যান চালানো যাচ্ছে না।”


\r\n

এদিকে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।


\r\n

আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।