তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত না করলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইউনেস্কোর বাংলাদেশ অফিসের প্রধান ও রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ। তিনি বলেন, তরুণদের কেবল নির্দেশনা দেওয়া নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে যুক্ত করা সময়ের দাবি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সুজান ভাইজ বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের আবেগ, দায়বদ্ধতা ও পরিবর্তন আনার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতিটি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও সমাজের উন্নয়নের জন্যও শিক্ষা অপরিহার্য। এর প্রভাব ব্যক্তি থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে বিস্তৃত।
তরুণরা ইতোমধ্যে বিজ্ঞান মেলা, স্কুলভিত্তিক উদ্ভাবনী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সৃজনশীল উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে। তবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ২০২৩ সালের সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, অষ্টম শ্রেণির ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। গণিতে দক্ষতার হার আরও কম। ভাষা ও গণিত দক্ষতা জীবনধারণের মৌলিক সক্ষমতা হলেও এর ঘাটতি উদ্বেগজনক।
আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সুজান ভাইজ বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার এসব দুর্বলতা চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে সমাধানের পথ খোঁজাই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। তিনি ইউনেস্কোর যুব কর্মসূচির দর্শন উল্লেখ করে বলেন, তরুণরা শুধু উপদেশ শুনতে চায় না; তারা মাঠে কাজ করতে চায় এবং নিজেদের প্রস্তাব ও ভাবনা কার্যকর করতে আগ্রহী। দক্ষতা, উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি তাদের।
শিক্ষা সংস্কারে শিক্ষার্থীদের অংশীদার হিসেবে যুক্ত করলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর পাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষকরা কেবল জ্ঞানদাতা নন; তারা পরামর্শক, দিকনির্দেশক এবং শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশের সহযাত্রী।
তিনি জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী চার বছরে শিক্ষক পেশাগত উন্নয়নে ইউনেস্কো ও ইউনিসেফ বিশেষ গুরুত্ব দেবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা ও বিএনসিইউ চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং বিএনসিইউ সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন।





