শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা এবং হলের কক্ষে অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্রলীগের নিষিদ্ধঘোষিত শাখার ১৯ জন নেতাকর্মীকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সাময়িক বহিষ্কারসহ নানা ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার সিন্ডিকেটের ২৩৭তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গৃহীত হয়।

আজীবন বহিষ্কৃতরা হলেন:

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ও বন ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সজীবুর রহমান, সহসভাপতি পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিমুল মিয়া, পরিসংখ্যান বিভাগের হাবিবুর রহমান হাবিব, বাংলা বিভাগের ইউসুফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএমবি বিভাগের লোকমান হোসেনসহ আরও ১৩ জন ছাত্রলীগকর্মী।


তাদের মধ্যে সমাজবিজ্ঞানের তারেক হাসান, পদার্থবিজ্ঞানের সৈয়দ মা’জ জারদি, পেট্রোলিয়াম ও খনি প্রকৌশল বিভাগের মুজাহিদুল ইসলাম সায়মন, পরিসংখ্যান বিভাগের অমিত সাহা, সমুদ্রবিজ্ঞানের মারবিন ডালি রিকি, লোক প্রশাসনের মামুন মিয়া ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ফারহান হোসেন চৌধুরী (আরিয়ান) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।


সাময়িক বহিষ্কার ও অন্যান্য শাস্তি: চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার: ৮ জন, তিন সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার: ১ জন, দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার: ১১ জন, সাময়িক বহিষ্কার: ১৫ জন, সতর্কীকরণ: ৮ জন


সাময়িক শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা, যেমন: রসায়ন বিভাগের মেহেদী হাসান (স্বাধীন), অর্থনীতি বিভাগের মামুন শাহ, লোকপ্রশাসনের সাইমন আক্তার, পলিটিক্যাল স্টাডিজের ফারহান রুবেল, বাংলা বিভাগের আইরিন আক্তার (লিনজা), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমামুল হাসান হৃদয় এবং আরও অনেকে।


প্রক্টর বলেন, \"সাময়িক শাস্তিপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে।\"

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্র রাজনীতিতে শৃঙ্খলা রক্ষায় এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতিনিধি: শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়