জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব হিসেবে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে নিয়োগ দিয়েছেন পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। সোমবার (৮ জুলাই) এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।


একইসঙ্গে পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার এবং মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।


জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গঠনতন্ত্রের ২০(ক) ধারায় চেয়ারম্যানকে যে কাউকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই পদ থেকে অব্যাহতি বা বহিষ্কার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।


তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দলজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। অব্যাহতি পাওয়া নেতাদের দাবি, কাউন্সিল ঘোষণার পর চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্তে কাউকে নিয়োগ বা অব্যাহতি দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তারা একে অগণতান্ত্রিক ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছেন।


নতুন মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এটি একটি বিশাল দায়িত্ব। চেয়ারম্যান আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, আমি সেই আস্থার মূল্য দিতে চাই। তৃণমূলকে সংগঠিত করতে গণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করব।”


অন্যদিকে পদচ্যুত মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, “জাতীয় কাউন্সিল ঘোষণার পর পদচ্যুতির এখতিয়ার নেই চেয়ারম্যানের। এটি বেআইনি ও অগণতান্ত্রিক। আমি এই সিদ্ধান্ত মানি না।”


এক যৌথ বিবৃতিতে দুই কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “চুন্নুকে বাদ দিয়ে নতুন মহাসচিব নিয়োগ চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের নমুনা। এটি পার্টির অস্তিত্বের জন্য হুমকি।”


দলের একাধিক সিনিয়র নেতাও বলছেন, ২০(ক) ধারা কার্যত চেয়ারম্যানকে একনায়কতান্ত্রিক ক্ষমতা দিয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করছে।


তাদের মতে, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়টিতে এমন সিদ্ধান্ত পার্টির জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে, যদি না এটি ‘অদৃশ্য নির্দেশনার’ অংশ হয়।


উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৯ অক্টোবর মসিউর রহমান রাঙ্গাকে সরিয়ে মুজিবুল হক চুন্নুকে মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন জিএম কাদের। এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় চেষ্টার অভিযোগ উঠছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।