বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ছয় বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ভারতের সঙ্গে ফেনী নদীর পানি বণ্টন, বন্দর ও জ্বালানি চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ার পর রাতে ছাত্রলীগের হাতে নির্মম নির্যাতনে নিহত হন তিনি।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছিল। ফেনী জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা মনে করছেন, ফেনী নদীর পানি নিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থে আবরার যে সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন, তা ফেনীবাসীর হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। অনেকে আবরারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেনী নদীর নাম পরিবর্তন করে ‘আবরার নদী’ রাখার দাবি তুলেছেন।

ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, “আবরার ফাহাদ আমাদের ফেনী নদীর ন্যায্য হিস্যার দাবি তুলে ভারতীয় আক্রোশের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের তাঁবেদারির কারণেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ফেনীর জনগণ আবরারকে কখনো ভুলবে না।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের স্বার্থরক্ষার যে চেতনা, আবরার তাতে এক আদর্শের নাম। আমরা দাবি করছি, ফেনী নদীর নাম ‘আবরার নদী’ করা হোক।”

ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবদুর রহীম বলেন, “ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই আবরারকে হত্যা করা হয়। যারা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছে, তাদের দমন করতে আওয়ামী লীগ সবসময় ষড়যন্ত্র করেছে।”

ফেনী জেলা হেফাজতে ইসলামের সেক্রেটারি মাওলানা ওমর ফারুক বলেন, “ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় আবরারকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। আমাদের দেশকে বিদেশি প্রভাবমুক্ত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা সংগঠক আবদুল্লাহ আল যোবায়ের বলেন, “আবরারকে হত্যা শুধু একটি দলের সিদ্ধান্ত ছিল না, এটি ভারতের প্রভাবের ফল। তার মৃত্যু ছাত্র সমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার করেছে, আর সেই চেতনা আজও বেঁচে আছে।”

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেনী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শহীদ আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ডকুমেন্টারি “You Failed to Kill Abrar Fahad” প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে নির্মমভাবে পিটিয়ে নিহত হন আবরার ফাহাদ। ফেসবুকে ভারতবিরোধী পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।