ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মধ্যেই লাতিন আমেরিকায় উত্তেজনার ছায়ায় সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডারে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ারফোর্স ফ্রান্সের বিমানবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে।


\r\n

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ওই স্থাপনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুদ ছিল। হামলার লক্ষ্যস্থল ছিল মধ্য সিরিয়ার প্রাচীন নগরী পালমিরার উত্তরের পাহাড়ি এলাকা।


\r\n

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শনিবার রাতে আমাদের বিমানগুলো সুড়ঙ্গপথগুলো লক্ষ্য করে পেভওয়ে ফোর বোমা নিক্ষেপ করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা গেছে। অভিযানে কোনো বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি এবং সমস্ত বিমান নিরাপদে ফিরে এসেছে। হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত মূল্যায়ন চলছে, তবে কর্মকর্তাদের বিশ্বাস অভিযান সফল হয়েছে।”


\r\n

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, “এই পদক্ষেপ আমাদের নেতৃত্বের পরিচয় দেয়। মধ্যপ্রাচ্যে দায়েশ ও তাদের সহিংস আদর্শের পুনরুত্থান রোধে আমরা মিত্রদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে সংকল্পবদ্ধ। অংশ নেওয়া সব সদস্যকে তাদের পেশাদারিত্ব ও সাহসের জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই অভিযান প্রমাণ করে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দেশকে নিরাপদ রাখতে সদা প্রস্তুত।”


\r\n

২০১৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে রয়্যাল এয়ারফোর্স ড্রোন ও চালকবাহী বিমানের মাধ্যমে আইএস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়া ও ইরাকে এখনও পাঁচ থেকে সাত হাজার আইএস যোদ্ধা সক্রিয় রয়েছে।


\r\n

সিরিয়া, নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে, গত নভেম্বর মাসে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আইএসবিরোধী জোটে ৯০তম দেশ হিসেবে যোগ দেয়। এই জোটের মূল লক্ষ্য ইসলামিক স্টেটের অবশিষ্ট অংশ নির্মূল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি যোদ্ধাদের প্রবেশ রোধ করা।


\r\n

গত ডিসেম্বর মাসে মধ্য সিরিয়ার পালমিরায় অতর্কিত হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন বেসামরিক দোভাষী নিহত হওয়ার পর দেশটিতে আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।