লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে প্রাণ হারানো স্পেন প্রবাসী যুবদল কর্মী সাইজুদ্দিন দেওয়ান (৪৫) হত্যার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিহতের বড় ভাই ও বিএনপি কর্মী হানিফ দেওয়ান রায়পুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

\r\n

মামলায় উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ফারুক কবিরাজকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তার ছোট ভাই মেহেদী কবিরাজসহ ২৬ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং আরও অজ্ঞাত ১৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

\r\n

ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চরবংশী ইউনিয়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জামিলুল হক (পিপিএম)।

\r\n

এদিকে হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার রাতে রায়পুর উপজেলা বিএনপির এক জরুরি বৈঠকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ১৬ জন নেতা-কর্মীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জেড এম নাজমুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ আহম্মদ ও সদস্যসচিব শফিকুর রহমান ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

\r\n

বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন—৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মেহেদী কবিরাজ, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবাদ উল্লাহ গাজী, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিক রাঁড়ি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরিফ হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ফারুক সর্দার এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ফারুক গাজীসহ অনেকে।

\r\n

গত সোমবার বিকেলে উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের মধ্য চরবংশী বেড়িবাঁধ ও খাসেরহাট বাজার এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে সাবেক যুবদল নেতা সাইজুদ্দিন দেওয়ান নিহত হন এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরবর্তীতে নিহতের অনুসারীরা প্রতিপক্ষের ৮টি বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।

\r\n

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।