দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে তীব্র ভাষায় তুলে ধরে প্রকাশ পেয়েছে র্যাপার এবিএম নোমানের নতুন প্রতিবাদী র্যাপ গান ‘পরিবর্তন চাই’। গতকাল একযোগে সব ডিজিটাল মিউজিক প্ল্যাটফর্মে গানটি মুক্তি দেওয়া হয়।
গানটির প্রতিটি স্তবকে উঠে এসেছে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক জবাবদিহির ঘাটতি এবং সাধারণ মানুষের বঞ্চনার বাস্তব চিত্র।
‘পরিবর্তন চাই পরিবর্তন, দেশটা চলবে না আগের মতন’—এই পুনরাবৃত্ত পঙ্ক্তির মাধ্যমে গানটি কেবল প্রতিবাদই নয়, বরং সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানায়।
গানের লিরিকে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে রাজনীতিবিদদের আয়ের উৎস, ক্ষমতার সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক, মিথ্যা মামলার সংস্কৃতি, প্রবাসীদের অবহেলা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করেও গোটা ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোই গানটির অন্যতম শক্তি।
গানটির পোস্টারেও ফুটে উঠেছে প্রতীকী বার্তা। একটি চলন্ত স্কুটারে বিপরীতমুখী বসে থাকা দুই চরিত্র যেন একই দেশে বসবাস করেও ভিন্ন বাস্তবতায় থাকা মানুষের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
গানটি প্রসঙ্গে র্যাপার নোমান বলেন, “এই গান কাউকে আক্রমণের জন্য নয়। মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখানোই আমাদের উদ্দেশ্য। ভোট দেওয়ার আগে, বিশ্বাস করার আগে এবং নেতা বাছাইয়ের সময় যেন সবাই একবার ভেবে নেয়।”
মুক্তির পর থেকেই ‘পরিবর্তন চাই’ শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং রাজনৈতিক স্যাটায়ার ও প্রতিবাদী হিপ-হপ ধারায় এটিকে সময়োপযোগী সংযোজন হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
গানটির কথা লিখেছেন সাইফ আলি, সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন এ বি এম নোমান আজাদ। মিউজিক প্রযোজনা করেছেন আমির হামজা খান এবং চিত্রনাট্য ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নাজমুল মুহাম্মদ।
বর্তমানে গানটি অ্যাপল মিউজিক, স্পটিফাই, অ্যামাজন মিউজিক, সাউন্ডক্লাউড, ডিজার, ইউটিউব মিউজিক ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শোনা যাচ্ছে।





