কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে প্রতিদিন গড়ে জন্ম নিচ্ছে ৮৭ জন শিশু। অর্থাৎ, বছরে এই সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩২ হাজার। ফলে দ্রুত বাড়ছে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি রোহিঙ্গা সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।
রোহিঙ্গাবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সংলাপে নেবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, “প্রতি বছর প্রায় ৩২ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নিচ্ছে। বর্তমানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৩ লাখে পৌঁছেছে।”
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত রোহিঙ্গা পরিবারের সংখ্যা দুই লাখ ৩৮ হাজার ৫০৭টি এবং মোট নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৯ জন। তবে স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি—সাড়ে ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে অনেকে শিবিরের বাইরেও বসতি গড়েছে।
রোহিঙ্গা নেতা দীল মোহাম্মদের দাবি, গত এক বছরে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। কক্সবাজার ও বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় ছড়িয়ে পড়া এসব রোহিঙ্গার অনেকেই সরকারি হিসাবের বাইরে রয়ে গেছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় আট হাজার একরের বনভূমির মধ্যে রয়েছে ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প। এত সীমিত পরিসরে বিপুল সংখ্যক মানুষের বসবাস দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, “একদিকে মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশ থেমে নেই, অন্যদিকে প্রতিটি ঘরে বেড়ে চলেছে নতুন শিশু। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই।”
এদিকে ক্যাম্পে স্বাস্থ্য ও মাতৃত্বসেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন এনজিও ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানাচ্ছেন, রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা খুবই কম। অধিকাংশ পরিবার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করে না। অনেকে একাধিক বিয়ে করে, এবং প্রতিটি স্ত্রীর সন্তানসংখ্যা গড়ে সাত-আটজন। কিছু পরিবারে সদস্যসংখ্যা ১৭-১৮ জনেও পৌঁছেছে।
রোহিঙ্গা শিবিরে দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যা, সীমিত সম্পদ এবং অনিয়ন্ত্রিত জন্মহার পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও সংকটময় করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





