সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় আহত ও নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য গঠিত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের ১২৭ কোটি টাকা ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন রানা প্লাজা সার্ভাইভারস এসোসিয়েশনের নেতারা।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ৩শ’ ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় শ্রমিকরা তাদের বঞ্চনা ও দুঃখ-দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সভাপতি মাহামুদুল হাসান হৃদয় ও কার্যকারী সদস্য ওহিদুল ইসলাম।
নেতারা অভিযোগ করেন, এখনও রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের নামে বিদেশে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে, কিন্তু সেই অর্থ প্রকৃত সার্ভাইভারদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। তারা বলেন, “আমরা যারা বাস্তব ভুক্তভোগী, তারা এই তহবিলের কোনো সুফল পাচ্ছি না। এটি চরম অন্যায় এবং শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা।” পাশাপাশি তারা জানিয়েছেন, রানা প্লাজা এম্বাসেডর ও শ্রমিক নেত্রী ইয়াসমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে, যা শ্রমিক আন্দোলন দমনের চেষ্টা।
নেতারা আরও বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আহত-নিহত শ্রমিকরা এখনো পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। অর্থাভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।
সংগঠনটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছে:
ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের নামে বিদেশে সকল ধরনের অর্থ সংগ্রহ অবিলম্বে বন্ধ করা। স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সার্ভাইভার-কেন্দ্রিক ব্যবস্থার নিশ্চয়তা দেওয়া। সার্ভাইভার ও নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে পূর্ণ ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। আহত ও পঙ্গু শ্রমিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, পুনর্বাসন, বাসস্থান ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। বিদেশ থেকে সংগৃহীত সকল অর্থের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত। ইয়াসমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো তহবিল, প্রকল্প বা পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণযোগ্য নয়।
এসোসিয়েশনের নেতারা জানান, “আমরা দয়া চাই না, আমরা চাই আমাদের ন্যায্য অধিকার। এটি আমাদের মানবিক ও সাংবিধানিক অধিকার। সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছি। গণমাধ্যমের কাছে অনুরোধ, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর দেশের এবং বিশ্বের সামনে তুলে ধরুন।”





