জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের মান্দাই থেকে দুর্গাপুর সড়কে সামাজিক বনায়নের গাছ রাতের আঁধারে কেটে পাচার করছে অজানা দুর্বৃত্তরা। দিনের পর দিন এভাবে সরকারি সম্পদ লুট হলেও কার্যকর কোনো প্রতিরোধ না থাকায় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ ও আতঙ্ক।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সড়কের পাশে লাগানো প্রায় ৫০–৬০ ফুট উচ্চতার ও ৫০–৫২ ইঞ্চি প্রস্থের একটি মোটা ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এভাবেই একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার সামাজিক বনায়নের মূল্যবান গাছ।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গভীর রাতে করাত ও ধারালো যন্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে দুর্বৃত্তরা এলাকায় প্রবেশ করে। অল্প সময়ের মধ্যেই গাছ কেটে ট্রাক বা ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। ভোরে কাটা গাছের গোড়া ও ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা ডালপালা দেখা গেলেও অপরাধীরা ধরা পড়ে না।
স্থানীয়রা জানান, নির্জন এই সড়কের দুই পাশে থাকা বড় বড় গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে নিয়মিত। অথচ এসব গাছ সরকারি সম্পদ—যা কাটা মানে সরাসরি রাষ্ট্রীয় ক্ষতি। তারপরও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো হস্তক্ষেপ নেই।
বিনইল গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, “এই রাস্তার দুই পাশের গাছগুলো আমাদের ছায়া দিত। এখন রাত হলেই বড় বড় গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। কারা করছে জানি না, কিন্তু নিয়মিত হচ্ছে—এটা সবাই জানে। তাই দ্রুত তদন্ত করে গাছ কাটা চক্র শনাক্ত করাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এর দাবি তার।”
মান্দাই গ্রামের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন বলেন, “প্রতিদিন গাছ কাটে ঠিকই, কিন্তু গত রাতে কাটা গাছটা ছিল খুব বড়। কম হলেও এর দাম ৩০ হাজার টাকা। ইউএনও আর থানায় আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। আজ নূরনবী মেম্বারসহ গিয়ে দেখি, সম্ভবত তার হেফাজতেই গাছটি আছে।”
গাছ পরিচর্যাকারী ফেরদৌসুর রহমান জানান, “গাছ লাগানোর পর থেকেই আমি দেখভাল করছি। মাত্র তিন মাসে দেড় কিলোমিটার সড়কজুড়ে ৫০–৬০টি গাছ কাটা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য দেড় লক্ষ টাকা। ইউএনও ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পাইনি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য নূরনবী বলেন, “গত রাতে যারা গাছ কেটেছে, তারা নিয়ে যেতে পারেনি। বিষয়টি আমি ইউএনওকে জানাই। তিনি আমার জিম্মায় রাখতে বললে গাছটি খণ্ড খণ্ড করে রেখে দিই।”
পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলন–এর জয়পুরহাট জেলা আহ্বায়ক তাহরিম আল হাসান বলেন, “এভাবে সড়কের সামাজিক বনায়ন উজাড় হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। কমবে রাস্তার সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা। গ্রীষ্মে পথচারীরা পড়বে চরম ভোগান্তিতে। সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ দরকার।”
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা বলেন, “গাছ কাটার খবর পেয়েছি। কাটা গাছটি স্থানীয় মেম্বারের হেফাজতে আছে। এর আগে এত গাছ চুরি হয়েছে—বিষয়টি আমার জানা ছিল না। দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সব জেনেও কেউ নীরব থাকছে কি না—এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ওই এলাকার মানুষদের মনে।





