জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত দফার আলোচনায় বসেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বুধবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য বদিউল আলম মজুমদারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই জাতীয় সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব থাকলেও, তার বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে এতদিন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। এর আগে গত ১১-১৭ সেপ্টেম্বর প্রথম দফার আলোচনা হলেও তা থেকে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে গত ৫ অক্টোবর অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়।
গণভোটের বিষয়ে বিএনপি, এনসিপি ও সমমনা জোটগুলো তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। জামায়াতে ইসলামি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের আগেই গণভোট চাইলেও, সূত্র জানায় তারা নির্বাচনের দিন গণভোট হলে আপত্তি করবে না। সংবিধান বিশেষজ্ঞরাও একই দিনে ভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন।
সূত্র অনুযায়ী, ৮৪টি প্রস্তাবের বিস্তারিত গণভোটে যাবে না। ব্যালটে শুধুমাত্র উল্লেখ থাকবে—\"জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আপনি কি একমত?\"— যেখানে ভোটাররা 'হ্যাঁ' অথবা 'না' বোতামে ক্লিক করে মতামত জানাবেন। বাজেট ও সময়ের সীমাবদ্ধতায় সংসদ নির্বাচনের দিনই আলাদা ব্যালটে গণভোট আয়োজনই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সম্ভাব্য রূপরেখা।
কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবরের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতিতে চূড়ান্ত সনদে স্বাক্ষর নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ২৯টি নির্বাহী আদেশ, ২১টি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ এবং বাকি ৩৪টি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য। নির্বাহী আদেশ ও অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য অংশে দলগুলো একমত হলেও, সংবিধান সংশোধন ইস্যুতে বিভক্ত ছিল দলগুলো। বিএনপি চাইছে সংসদের মাধ্যমে পরিবর্তন, এবং ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণ। জামায়াত চাইছে আপাতত আদেশ জারি করে বাস্তবায়ন, পরে গণভোটের মাধ্যমে বৈধতা নিশ্চিত।
এনসিপি চেয়েছিল গণপরিষদ গঠন করে বাস্তবায়ন—তবে শেষ আলোচনায় দলটি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনের জন্য সরকার ইতোমধ্যে কমিশনের মেয়াদ তিন দফা বাড়িয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৫ অক্টোবর। কমিশন চায় ১০ অক্টোবরের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া শেষ করে সনদের চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন দিতে।
আজকের বৈঠক শেষে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।





