“মানুষ মানুষের জন্য”—এই নীতিকে কেন্দ্র করে মানবিক বিপর্যয়ের সময়ে অসংখ্য মানুষ এগিয়ে আসেন অন্যদের সহায়তায়। দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে অনেক সময়ই কারও রক্ত দরকার হয়। তখন অন্য কেউ স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে আরেকজনের জীবন বাঁচিয়ে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এটি সমাজের সৌন্দর্য ও সহানুভূতির প্রতিফলন।
\r\nতবে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের মনে একটি প্রশ্ন প্রায়ই ঘুরপাক খায়—“অজু অবস্থায় রক্ত দিলে কি অজু ভেঙে যাবে? রক্ত দেওয়ার পর আবার অজু করতে হবে কি না?”
\r\nইসলামী শরিয়তের আলোকে জানা যায়, অজু ভেঙে যাওয়ার নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। যেমন—পায়খানা-পেশাবের রাস্তা দিয়ে কিছু বের হওয়া, মুখভরে বমি করা, উচ্চস্বরে হাসা, ঘুমিয়ে পড়া, অথবা শরীর থেকে রক্ত, পুঁজ বা পানি বের হয়ে গড়িয়ে পড়া।
\r\nতথ্যসূত্রে (আহসানুল ফাতাওয়া: ২/২৭, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া: ৫/৭০) বলা হয়েছে, শরীর থেকে এমন পরিমাণ রক্ত বের হওয়া যা গড়িয়ে পড়ে, তা অজু ভঙ্গের কারণ। রক্তদানের সময় শরীর থেকে যে রক্ত বের হয়, তা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এবং সাধারণত গড়িয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে শরিয়ত মতে, রক্তদানের পর অজু পুনরায় করতে হবে।
\r\nরক্তদান শুধুই চিকিৎসার একটি মাধ্যম নয়, ইসলামে এটি একটি মহৎ ও সওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
\r\n“যে একজন মানুষের জীবন বাঁচাল, সে যেন পুরো মানব জাতিকে বাঁচাল।” (সুরা মায়িদা: ৩২)
\r\n




