ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে দেশটির রাজনীতি নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শারীরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে একাধিক নারী এমপিকে মন্ত্রী পদ দিয়েছেন।

স্বামী বলেন, এই ধরনের ঘটনা শুধু গুজব নয়, বরং হিন্দুত্ববাদী মহলে বহুবার শোনা গেছে। তিনি বিশেষভাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং এস জয়শঙ্করের নাম উল্লেখ করেন এবং ইঙ্গিত দেন, তাদের মন্ত্রিত্বের পেছনেও ‘বিশেষ পরিষেবা’ বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব ছিল।

এ বিষয়ে সমর্থন দিয়েছেন হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার। সম্প্রতি তিনি একটি পডকাস্টে বলেছেন, ভারতের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দিকে নজর দেওয়া উচিত। তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানির নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে তিনি মন্ত্রী হয়েছেন এবং কেন এসব বিষয় জনসমক্ষে আসে নি।

মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার দীর্ঘদিন মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং এক সময় তাকে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তাই তার হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

তবে এতদূরেও কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিযোগ প্রকাশিত হওয়া মাত্রই ভারতের রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের দাবি কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি শুধুই ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে। বিরোধী দল এবং সামাজিক সংগঠনগুলোও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

এই বিতর্ক ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে, যেখানে ক্ষমতার ব্যবহার, নীতি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।