ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলার মধ্যে পবিত্র মহররম মাসকে ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। হিজরি নতুন বর্ষের সূচনা হতে যাচ্ছে আগামী ২৬ অথবা ২৭ জুন, চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। মুসলিম বিশ্বে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এই মাসটি শিয়া মুসলমানদের জন্য শোক, আত্মত্যাগ ও ন্যায়-অন্যায়ের প্রতীকের রূপ ধারণ করে।

\r\n

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স-এর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ইরাকের কারবালায় ইমাম হোসেনের রওজা শরিফে মহররম উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক কাজে ব্যস্ত কর্মীরা। এসব আয়োজন চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত।

\r\n

মহররমের প্রধান তাৎপর্য হলো কারবালার প্রান্তরে সপ্তম শতকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের শাহাদাত। প্রতিবছর এই মাসে হাজারো ইরানি তীর্থযাত্রী ইরাকের কারবালায় ইমাম হোসেনের পবিত্র রওজা জিয়ারতে যান। পাশাপাশি, ইরানের বিভিন্ন শিয়া মসজিদ, ইমামবাড়া ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত হয় তাজিয়া, মাতম ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।

\r\n

এদিকে, গত ১১ দিন ধরে ইরান লক্ষ্য করে একাধিক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। সর্বশেষ গত শনিবার এই হামলায় যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিন বাহিনী ইরানের নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় ‘বাংকার বিধ্বংসী বোমা’ হামলা চালায়।

\r\n

প্রথম দফার হামলায় ইরান হারিয়েছে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী। নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

\r\n

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানিরা তাদের ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী কর্মসূচি পালনে দৃঢ় প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা তাদের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।