ভেনেজুয়েলার ৬৬ জন শিশুকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ‘অপহরণ’ করে আটক করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির সরকার। এসব শিশুকে তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ভেনেজুয়েলা সরকারের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কর্মসূচির সভাপতি ক্যামিলা ফ্যাব্রি বলেন, “আমাদের ৬৬ জন শিশু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপহৃত হয়েছে। এই সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। এটি একটি নিষ্ঠুর ও অমানবিক নীতি।”
তিনি এসব শিশুদের দ্রুত হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে বলেন, যেন তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৭০ লাখের বেশি ভেনেজুয়েলান নাগরিক দেশ ছেড়েছে। লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট। সহিংসতা, গ্যাং লড়াই, মুদ্রাস্ফীতি, অপরাধ এবং খাদ্য ও ওষুধের সংকট—এসব কারণেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন ভেনেজুয়েলানরা।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পায়নি।
এদিকে, জানানো হয়েছে—এরই মধ্যে ২১ জন শিশুকে ভেনেজুয়েলায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন মার্চ মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানে আটক ২৫২ জনের একজনের মেয়ে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই তাদের এল সালভাদরের কারাগার সিইসিওটিতে পাঠানো হয়।
চলতি বছরের জুলাইয়ে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। দেশে ফিরে আসা চারজন জানান, তারা বন্দিদশায় মারধর, নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ওয়াশিংটন মাদুরোর নির্বাচনী জয়কে বৈধতা দেয়নি এবং তাকে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী দলের নেতা বলেও অভিযুক্ত করেছে। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে সোমবার মাদুরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে তিনি দেশে লাখ লাখ সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করবেন।





