যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকেলে পৌর শহরে হামলার প্রতিবাদে জামায়াতের নারী সদস্যরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা জানান, দুপুরে ১০-১২ জন মহিলা জামায়াতের কর্মী নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’এর পক্ষে গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে ভোট প্রার্থনা করতে যান। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা তাদের প্রচারণায় বাধা দেন ও গালিগালাজ করেন। খবর পেয়ে যুব জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের উপর এসএস পাইপ, বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালান। এতে ১০ জন আহত হন।
ঝিকরগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক বায়তুল মাল সম্পাদক মুস্তাকিম হাসান অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতারা আগে থেকেই জোট পাকানোর চেষ্টা করছিলেন। জামায়াতের মহিলা কর্মীরা ভোট চাইতে গেলে তাদের উপর হামলা করা হয়। এতে মুস্তাকিম হাসান, যুব জামায়াতের জহিরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ দাবি করেছে, জামায়াত কর্মীরা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের মতো পোশাক পরে তাদের ওপর হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়। যশোর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নী বলেন, “জামায়াত কর্মীরা আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়ে এসে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। তারা সংঘর্ষের সূত্রপাত করেছে।”
দুপুরের ঘটনার পর বিকেলে ঝিকরগাছা বাজারে জামায়াতের নারী সদস্যরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। দারুল উলুম কামিল মাদরাসা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ঝিকরগাছা বাসস্ট্যান্ড ঘুরে একই স্থানে শেষ হয়।
ঝিকরগাছা থানার ওসি দেওয়ান মোহাম্মদ শাহজালাল আলম বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।





