চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছা উপজেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজার তদারকি অভিযানে ‘কমলা আইসক্রিম ফ্যাক্টরি’র মালিক রশিদুল ইসলামকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্যাক্টরিটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ঝিকরগাছা রোডের ছুটিপুর স্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান। অভিযানে সহযোগিতা করেন চৌগাছা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন, জেলা পুলিশের সদস্যরা এবং ক্যাব প্রতিনিধি রকিব উদ্দিন সরকার।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে উঠে আসে, ‘কমলা আইসক্রিম ফ্যাক্টরি’তে প্রাণ কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করে আইসক্রিম, রোবো এবং কোল্ড ড্রিংকস প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল।
সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান বলেন, “ফ্যাক্টরিটি দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনবিহীনভাবে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া কোনো খাদ্য বা আইসক্রিম উৎপাদন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তাছাড়া ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে বিভিন্ন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল। এসব পণ্য শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং কিডনি পর্যন্ত নষ্ট করতে পারে।”
তিনি আরও জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী অবৈধভাবে উৎপাদনের দায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহার করার অপরাধে আরও ৫০ হাজার টাকা—মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ফ্যাক্টরি মালিককে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চৌগাছা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, “ফ্যাক্টরিতে যে ‘আমের উপাদান’ ব্যবহার করা হচ্ছিল, তা আসলে কাপড়ের রং ও অন্যান্য বিষাক্ত উপাদান দিয়ে তৈরি। শিশুদের এমন ভেজাল খাবার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কেউ এ ধরনের অনিয়ম দেখলে থানায় অভিযোগ দিন। এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।”





