কুষ্টিয়ার\r\nকুমারখালীতে প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী গাজীকালু - চম্পাবতী মেলা বসানো নিয়ে জামায়াত\r\nও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা\r\nঘটেছে।
\r\n\r\nমঙ্গলবার\r\n(২০মে) সন্ধায় উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা চাপাইগাছি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এতে\r\nউভয়পক্ষের একাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে মেলায়\r\nহামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষ নিয়ে উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। জামায়াতের\r\nআহতরা হলেন -আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুর রহমান, রাহাত খান তারা কুষ্টিয়াতে ভর্তি আছেন এছাড়াও\r\nতুহিন, হাবিবৃর রহমান, মোতালেব, মোহাম্মদ আলি,\r\nইউনুস মাওলানা, জিহাদ, ইউনুস আলীকুমারখালী\r\nউপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি আছে।
\r\n\r\nবিএনপির আহতরা\r\nহলেন, খোকসা সরকারি কলেজের প্রভাষক সরাফাত সুলতান, বাঁখই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী\r\nশিক্ষক টিপু সুলতান, গফুর শেখের ছেলে সুকুর শেখ, আজিজলের ছেলে শরীফ, আসাকুর রহমান।\r\nতারা বিএনপির কর্মী - সমর্থক। তারা কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন\r\nরয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়\r\nসুত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড়শ বছর ধরে হোগলা চাপাইগাছি বাজারে গাজীকালু - চম্পাবতী\r\nমেলার আয়োজন করে আসছেন স্থানীয়রা। ১৭ মে মেলা থেকে শুরু হওয়ার কথা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন\r\nএলাকা থেকে আসতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে মেলায় অশ্লীল কর্মকাণ্ড ও জুয়া খেলার\r\nঅভিযোগ তুলে মেলা বন্ধের দাবি তোলেন জামায়াত ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। আর\r\nপ্রশাসনের অনুমতি না মিললেও বিএনপির সমর্থকরা মেলা বসানোর চেষ্টা করেন। এ নিয়ে আজ মঙ্গলবার\r\nবিকেল থেকে এলাকায় উভয় দলের নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ দফায় দফায়\r\nটহল দেন। তবুও এক পর্যায়ে সন্ধায় উভয়পক্ষের মধ্যে পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও\r\nসংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
রাত সাড়ে\r\n৭ টার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভিড় করেছেন।\r\nআহতদের চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তাদের দেখতে ছুটে এসেছেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে\r\nআমীর আফজাল হোসাইন।
\r\n\r\nবিএনপি সমর্থকদের\r\nঅভিযোগ জামায়াতের নেতাকর্মীরা লুটপাট ভাংচুড় করেছে এ সময় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার\r\nকরে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, মেলায় অশ্লীল\r\nকর্মকাণ্ড ও জুয়ার আসর বসানো হয়। সেজন্য প্রশাসন অনুমতি দেননি। তবুও বিএনপি ও মেলা\r\nকমিটি মেলার আয়োজন করেছেন। আমরা মেলার বিষয় জানতে গেলে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে\r\nহামলা চালিয়েছেন। আমিসহ আমাদের অনেকেই আহত হয়েছেন। থানায় মামলা করা হবে।
\r\n\r\nতবে অভিযোগ\r\nঅস্বীকার করে বিএনপির সমর্থক ও খোকসা সরকারি কলেজের প্রভাষক সরাফাত সুলতান বলেন, জামায়াতের\r\nশত শত লোকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। বিচারের\r\nআশায় থানায় মামলা করব। রাত ১০ টার\r\nচাপাইগাছি বাজারে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সুনসান নিরবতা। মেলার মাঠের কয়েকটি দোকানে\r\nভাঙচুরের ক্ষত।
\r\n\r\nএ সময় প্রত্যক্ষদর্শী\r\nও বাজারের কলা ব্যবসায়ী মফি শেখের ছেলে নাদের শেখ (৬৫) বলেন, শও শও বছর ধরে মেলা হয়ে\r\nআসছে। আজ দেখলাম দুইপক্ষের দাবড়া দাবড়ি।
জামায়াতের\r\nবিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আফজাল হোসাইন বলেন,\r\nইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডে জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে গেলে মেলা\r\nকমিটির লোকজন হামলা করেছেন। থানায় মামলা করা হবে।
\r\n\r\nশতবছর ধরে\r\nচলা আসা মেলায় এবার অনুমতি মেলেনি বলে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান\r\nশেখ। তিনি বলেন, মেলা বসানো নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েক জন আহত হয়ে হাসপাতালে\r\nচিকিৎসাধীন। এখন এলাকার পরিবেশ শান্ত আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া\r\nহবে।





