মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় এক প্রবাসীকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শ্যাম সুন্দর এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. শাহাদত বেপারী, মো. ইব্রাহিম বেপারী ও মো. জাহাঙ্গীর বেপারী। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন মো. মনির চৌকিদার, মো. হায়াতুল ইসলাম চৌকিদার, মো. হাবিব বেপারী, মো. আশরাফুল খান, মো. হুমায়ূন দেওয়ান, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান, মো. আইয়ূব খাঁ ও মো. লিটন বেপারী।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ইব্রাহিম বেপারীসহ যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত লিটন বেপারী, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান ও হাবিব বেপারী পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় অন্যান্য আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. বিল্লাল হোসেন জানান, এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট এবং দ্রুত রায় কার্যকরের আশা প্রকাশ করেন।
২০২৩ সালের ১৪ জুন রাতে মুন্সীগঞ্জ থানাধীন পূর্ব রাখি এলাকায় নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা শ্যামল বেপারীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আসামিরা ঘরে ঢুকে গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় নিহতের ভাই মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ৩৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।





