মিয়ানমারে সামরিক জান্তার উদ্যোগে দেশের নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার এই ভোট অনুষ্ঠিত হলেও গণতন্ত্র পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এটি মূলত সামরিক শাসনকে বেসামরিক রূপ দিয়ে দীর্ঘায়িত করার একটি কৌশল।

মিয়ানমারের স্বাধীনতার পর থেকে দেশের অধিকাংশ সময়ই সামরিক শাসনের অধীনে কেটেছে। প্রায় এক দশক আগে গণতান্ত্রিক সংস্কারের ফলে বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় এলেও ২০২১ সালে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। ওই অভ্যুত্থানে আগের নির্বাচনের ফল বাতিল করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয় গণতন্ত্রের নেত্রী অং সান সু চিকে এবং দেশটি গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে যায়।

রোববার সকাল ৬টা থেকে (গ্রিনিচ মান সময় শনিবার রাত ১১টা ৩০ মিনিট) ভোটগ্রহণ শুরু হয় ইয়াঙ্গুন শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কাওহমু এলাকায়, যা অং সান সু চির সাবেক নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত।

পাঁচ বছর ধরে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার পর জান্তা দাবি করেছে, ২৫ জানুয়ারি শেষ হতে যাওয়া তিন ধাপের এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) প্রথম ধাপেই নিম্নকক্ষের প্রায় ৯০ শতাংশ আসনে জয় পেয়েছে।

অং সান সু চি কারাবন্দি থাকায় এবং তার নেতৃত্বাধীন জনপ্রিয় দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিলুপ্ত হওয়ায় গণতন্ত্রপন্থীদের অভিযোগ, এই নির্বাচন সামরিকপন্থী দলগুলোকেই সুবিধা দিতে পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে।

ইয়াঙ্গুনের এক ৫০ বছর বয়সী বাসিন্দা নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেন, “এই নির্বাচনের ফল আগেই নির্ধারিত, সবকিছুই সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সাধারণ মানুষের এই নির্বাচনে তেমন আগ্রহ নেই। আমাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের সঙ্গে এই নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।”