\r\n

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নৌবহর পারস্য উপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতসংলগ্ন জলসীমায় ইরানের একাধিক জাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের যে কোনো হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে।

\r\n

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে আন্দামান সাগরে অবস্থান করছে এবং মালাক্কা প্রণালি পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রা করেছে। রণতরীটির সঙ্গে রয়েছে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষম সহায়ক জাহাজ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি আরব সাগর হয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

\r\n

এই পরিস্থিতিতে ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী একাধিক জাহাজ দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা দিতে ইরানের প্রদর্শনমূলক নৌ তৎপরতা। একই সঙ্গে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

\r\n

উত্তেজনার মধ্যে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলার সুযোগ খুঁজছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এয়ার ফ্রান্স ও কেএলএমসহ ইউরোপের একাধিক বিমান সংস্থা মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

\r\n

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি যুদ্ধ শুরু না হলেও বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলটি চরম সামরিক সতর্কতার মধ্যে রয়েছে। সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা সীমিত সংঘর্ষ থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।