ক্যাপিটল হিলে রুদ্ধদ্বার এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এসব ড্রোনের সবগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম নাও হতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত দুটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেছেন যে, ইরানের এসব ড্রোন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সমস্যার সৃষ্টি করছে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহেদ ড্রোনগুলো সাধারণত খুব নিচ দিয়ে এবং ধীরগতিতে উড়ে। ফলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এগুলো সহজেই প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে পারে।
তবে ব্রিফিং সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কমানোরও চেষ্টা করেছেন। তারা বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের মজুদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
এদিকে একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অধিকাংশ সামরিক স্থাপনা ইতোমধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বের ওপরও নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়া ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে—এ প্রশ্নকে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি কর্মকর্তারা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন নয়; বরং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, নৌবাহিনী, সম্ভাব্য পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহের সক্ষমতা ধ্বংস করা।
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হতে পারেন—এ প্রশ্নেও ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই অভিযানে সম্ভাব্য কয়েকজন উত্তরসূরিও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
তবে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জটিল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।
এ সংঘাত কতদিন চলতে পারে—এ প্রশ্নে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের বক্তব্যেও ভিন্নতা দেখা গেছে। আলাবামার রিপাবলিকান সিনেটর টমি টুবারভিল বলেছেন, ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন বাহিনী তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে আনতে পারে।
অন্যদিকে মিসৌরির রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাউলি বলেন, অভিযানের সম্ভাব্য সমাপ্তির কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা কর্মকর্তারা উল্লেখ করেননি।
নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরি বলেছেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যন্তও চলতে পারে বলে কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিকে ইরানে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহৃত হওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের মজুদ কমে গেলে মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলেও প্রতিরক্ষা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য, অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি বলেন, “আমাদের অসীম মজুদ নেই। ইরানের কাছে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।”
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে। অনেক ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
তবে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়, বরং তাৎক্ষণিক হুমকি মোকাবিলায় পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান।





