ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো এক নজিরবিহীন সামরিক অভিযানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকের পাশাপাশি দেশটির সেনাসদস্যও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এক জ্যেষ্ঠ ভেনেজুয়েলান কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযানের সময় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, নিহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য দু’পক্ষই রয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় সেনা নামানোর আগে যুক্তরাষ্ট্র বড় পরিসরে বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর করে। এ অভিযানে ১৫০টির বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়। আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংস হওয়ার পর সামরিক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সেনা নামানো হয় এবং সেখান থেকেই প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়।

হতাহতের সংখ্যা ও অভিযানের বিস্তারিত জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে মার্কিন বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযানটিকে একটি ‘শক্তিশালী ও চমকপ্রদ পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা পালন করবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে প্রকাশিত অভিযোগপত্রে মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে কোকেন পাচারসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এ ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে, যা লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।