জুলাই অভ্যুত্থানের পর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের তিনটি আসনেই রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। আওয়ামী লীগের বহু প্রভাবশালী নেতা গ্রেপ্তার, পলাতক বা বিদেশে থাকায় এলাকায় তাদের কার্যত উপস্থিতি নেই। ফলে বিএনপি জেলায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। পাশাপাশি মাঠে তৎপর জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপিও।
তিনটি আসনেই বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভিড় থাকলেও মাদারীপুর-১ ও মাদারীপুর-২ আসনে এখনও দল প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। দুই আসনে মোট প্রায় ১৫ জন নেতা মনোনয়ন পেতে সক্রিয়, যার ফলে প্রতিযোগিতা ও বিভক্তিও স্পষ্ট। অন্যদিকে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিয়মিত গণসংযোগে ব্যস্ত।
মাদারীপুর-১ (শিবচর)
১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে এই আসন গঠিত। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে পরিচিত এলাকা এখন কার্যত বিএনপির নিয়ন্ত্রণে। মনোনয়নপ্রত্যাশী ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাবলু, সাবেক এমপি নাভিলা চৌধুরী, উপজেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক নাদিরা মিঠু চৌধুরী ও কামাল জামান মোল্লা।
জামায়াতে ইসলামী এ আসনে সারোয়ার হোসেন মৃধাকে সামনে রেখে প্রচারণা চালাচ্ছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, জমিয়ত ও খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য দলও প্রার্থী দিয়েছে।
মাদারীপুর-২ (সদর–রাজৈর)
জেলার সবচেয়ে বড় আসনটি। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ৬ জন। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সহশিক্ষা সম্পাদক ও সাবেক এমপি হেলেন জেরিন খান, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাহান্দার আলী জাহান, জেলা কমিটির সদস্য মিল্টন বৈদ্য বেশি সক্রিয়।
এছাড়া আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাফর আলী মিয়া, ব্যারিস্টার শহীদুল ইসলাম খান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজও প্রচারণায় আছেন।
জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও মাঠে রয়েছেন।
মাদারীপুর-৩ (কালকিনি–ডাসার)
এই আসনে বিএনপি ইতোমধ্যে মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সহগণশিক্ষা সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে। সরকারের পতনের পর এলাকায় বিএনপি বেশ শক্ত অবস্থানে আছে।
জামায়াতের প্রার্থী কালকিনি পৌর আমির মো. রফিকুল ইসলাম মৃধা এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা এস এম আজিজুল হকও নিয়মিত গণসংযোগ করছেন।
এনসিপি এখনও প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দলটির নেতা মো. শহিদুল ইসলাম এলাকায় নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
সার্বিক চিত্র
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির সুযোগে বিএনপি ও জামায়াত পুরো জেলায় নিজেদের অবস্থান জোরদার করেছে। মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকলেও বিএনপি তিন আসনেই শক্তিশালী লড়াইয়ে আছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রচারণার তীব্রতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





