ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন করে প্রায় ২,৫০০ নৌসেনা (মেরিন) এবং একটি উভচর যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জাপানের ওকিনাওয়ায় মোতায়েন থাকা ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনাল ইউনিটের সদস্যদের মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে। একইসঙ্গে উভচর আক্রমণজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলিকেও ওই অঞ্চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে জাহাজটিকে তাইওয়ানের কাছ দিয়ে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি এক সপ্তাহের মধ্যে ইরান উপকূলে পৌঁছাতে পারে।
সাধারণত মেরিন এক্সপিডিশনাল ইউনিট সমুদ্রপথে অবতরণ, দূতাবাস সুরক্ষা, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে দক্ষ। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের মোতায়েনকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ অন্তত ১২টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে প্রায় ৮,০০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।
নতুন এই সেনা মোতায়েনের খবর প্রথম প্রকাশ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বাড়াচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এ কারণে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হচ্ছে।
উভচর জাহাজ থেকে সাধারণত পদাতিক বাহিনী স্থলভাগে অভিযান চালায়। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে পারস্য উপসাগর বা ওমান উপসাগর হয়ে ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জল্পনাও জোরালো হচ্ছে।
এদিকে, ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধ তখনই শেষ হবে, যখন আমি তা অন্তরে অনুভব করব।” ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি সতর্ক মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই রাজধানী তেহরানের একটি কেন্দ্রীয় স্কয়ারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ফিলিস্তিনপন্থী এক গণসমাবেশ চলাকালে এ বিস্ফোরণ ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া না গেলেও, পরিস্থিতি যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।





