বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে দেশের ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার আগ্রহী। ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক একটি নতুন গবেষণায় ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব, অগ্রাধিকার এবং নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়েছে।


মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস) যৌথভাবে এই প্রতিবেদন উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাবুল হক। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। প্রতিবেদনের উপস্থাপনা করেন লেখক ও সিআরএফ-এর স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।


প্রতিবেদনটিতে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ভোটারদের অংশগ্রহণ, অগ্রাধিকার, নেতৃত্বের ধারণা এবং নির্বাচনি পরিবেশ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল স্ট্রাটিফাইড র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১১,০৩৮ ভোটার অংশ নিয়েছেন।


গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তবে প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনও অনিশ্চিত বা ভোটে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেননি। লিঙ্গ, বয়স, শিক্ষা এবং বসবাসের স্থানের ভিত্তিতে ভোটদানের আগ্রহে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই।


ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে দুর্নীতি ও সুশাসন। প্রায় ৬৭.৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, অন্যদিকে ধর্মীয় বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন মাত্র ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার।


ভোটাররা এমন নেতাদের বেশি পছন্দ করছেন, যারা জনগণের কথা ভাবেন এবং কার্যকর নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে তারা জনদরদি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।


রাজনৈতিক তথ্যের প্রধান উৎস হিসেবে ভোটাররা টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে উল্লেখ করেছেন। অধিকাংশ ভোটার একাধিক তথ্যসূত্র ব্যবহার করেন।


নির্বাচন ব্যবস্থাপনার চেয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ভোটারদের জন্য বেশি উদ্বেগের বিষয়। ভয়ভীতি, জালিয়াতি এবং ব্যালট দখলের আশঙ্কা সব দলের সমর্থকদের মধ্যে দেখা গেছে।


গবেষণায় দেখা গেছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে সমর্থন করছেন। বাকি ৫২ শতাংশ ভোটার অন্য কোনো প্রার্থীকে বেছে নিতে পারেন। এছাড়া, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দেওয়ার ভোটারদের মধ্যে ৩৭.৪ শতাংশ জামায়াতকে পছন্দ করছেন।


ভোটাররা সাধারণত প্রার্থীকে বেশি গুরুত্ব দেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার প্রার্থী বা প্রার্থী-দল উভয় বিষয় বিবেচনা করে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ৩০.২ শতাংশ শুধুমাত্র প্রার্থীকে গুরুত্ব দেন, এবং ৩৩.২ শতাংশ ভোটার প্রার্থী ও দল উভয়কেই বিবেচনায় রাখেন।