ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি ও রামবান জেলায় ভূমিধস ও মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে এক পরিবারের ৭ সদস্যও রয়েছেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিয়াসি জেলার মাহোরে এলাকায় বাদার গ্রামে ভূমিধসের ফলে ৩৮ বছর বয়সী নাজির আহমেদের বাড়ি ধসে পড়ে। কাদা ও মাটির নিচ থেকে নাজির, তার স্ত্রী ও ৫ সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, রামবান জেলার রাজগড় গ্রামে একটি স্কুলে মেঘভাঙা বৃষ্টির পর সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ৫ জনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন—ওম রাজ, বিদ্যা দেবী, দ্বারকানাথ, অনামা এবং এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি, যিনি এখনও নিখোঁজ।
সম্প্রতি ভারতে জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তরাখণ্ডে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও বন্যা দেখা দিয়েছে, যার ফলে ১৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই তীর্থযাত্রী।
এই পরিস্থিতির কারণে জম্মু অঞ্চলের কাটরার সঙ্গে ভারতের অন্যান্য অংশের ট্রেন যোগাযোগ পঞ্চম দিনেও বন্ধ রয়েছে। শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় মহাসড়কও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে। এই সড়কটি পুনরায় চালু করতে কত সময় লাগবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এছাড়া, আবহাওয়ার কারণে জম্মু বিভাগের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুল শনিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ ও সরঞ্জাম সচল থাকলে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সম্প্রতি বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুই দিনের টানা বৃষ্টিপাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে এবং এই অঞ্চল ‘অল্পের জন্য’ বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছে। তিনি ২০১৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সঙ্গে বর্তমানে পরিস্থিতির তুলনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃষ্টিপাত হলে একই ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেন।





