ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে এক হিন্দু পোশাক শ্রমিককে দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় ধর্ম অবমাননার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

র‍্যাব-১৪-এর ময়মনসিংহ কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান জানান, নিহত ব্যক্তি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছেন—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “নিহত ব্যক্তি যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু লিখতেন, তাহলে সেটি যাচাই করা যেত। কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে কেউ এমন কিছু শুনেছেন বা দেখেছেন—এমন কাউকে পাওয়া যায়নি।”

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কারখানার নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে বাইরে পাঠানো হয়। এরপর বাইরে তাকে পিটিয়ে ও আগুন দিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুলিশের কাছ থেকে শ্রমিককে নিয়ে গিয়ে হত্যার দাবিকে ভুয়া বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, “আমাদের কাছে খবর আসে অনেক পরে। তাকে সরাসরি কারখানা এলাকা থেকেই তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”

নিহত ব্যক্তির চাচাতো ভাই কার্তিক চন্দ্র দাস বলেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা ভিডিওতে স্পষ্ট। তিনি দাবি করেন, তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট কারখানার কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকার এক বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের সহিংসতার কোনো স্থান নেই। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।